10 October 2019

স্বাধীনতা সংগ্রামী ও  বৈজ্ঞানিক ড: মেঘনাথ সাহার ১২৬ তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ছাত্রাবস্থায় পূর্ববঙ্গ -এর ছোট লাট স্যার বমফিল্ড ফুলার স্কুল পরিদর্শনে গেলে তাঁরই নেতৃত্বে ছাত্ররা বিদ্যালয় ত্যাগ করে প্রতিবাদ জানায়। এটা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন সারা বাংলায় যখন চলছিল তখনকার ঘটনা। ছাত্র জীবন হতেই এভাবে তাঁর রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। বিপ্লবীদের সঙ্গে  তিনি যোগাযোগ রাখতেন। ১৯১৪ সালের বন্যাত্রাণের কাজে তাঁর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। ১৯২৩ সালে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের রিলিফ কমিটিতে থেকে তিনি জনহিতকর কাজে অংশ গ্রহণ করেন।দেশ ভাগ হলে উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন  ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে তিনি আন্দোলন  করেন।তিনি লোক সভার সদস্য হন। সে সময় বিরোধীপক্ষের নেতা নির্বাচিত  হয়ে ছিলেন।

ড: মেঘ্ নাথ সাহা ১৮৯৩ সালের ৬ ই অক্টোবর  ঢাকা জেলার অন্তর্গত সেওড়াতলী নামে একটি অখ্যাত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা জগন্নাথ সাহার আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। ড: মেঘনাথ সাহা ৫ বছর বয়সে ৫ মাইল দূরের প্রাথমিক স্কুলে পড়াশুনা শুরু করেন।পরে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। ঢাকা কলেজ হতে আই. এস. সি. পাশ করেন। পরে কলকা তা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম. এস. সি. তে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। ১৮১৮ সালে বিজ্ঞান কলেজের লেকচারার হন। সে বছরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.এস.-সি. হন।

১৯২০সালে থিওরি অব থারমাল আইওনাইজেশন তত্বের প্রবক্তা এই গর্বেষনা মেঘনাথ সাহাকে বিখ্যাত করে তোলে। উচ্চতর গর্বেষণার জন্য তিনি লন্ডনে যান। পরে যান বার্লিনে। দীর্ঘ ৬ বছর গর্বেষণার পর দেশে ফেরেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালের খয়রা অধ্যাপক হন।

১৯২৩ সালে তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৫ বছর এলাহাবাদেই থাকেন। সূর্যের বর্ণালি তিনি বিশ্লেষণ করেন। এই বিশ্লেষণে তিনি দেখান যে সূর্যদেহে পৃথিবির সব বস্তুগুলোই বর্তমান। সূর্যের প্রতি ১০০ ভাগের মধ্যে হাইড্রোজেন ৮১.৭.বাকি১৮.১৭ হিলিয়াম.. ০৭কার্বন, নাইট্রোজেন,অক্সিজেন। লৌহ, নিকেল, দস্তা,সিসা, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, সুলু কন, প্রভৃতি পার্থিব উপাদানের গ্যাস। এছাড়া সূর্যের বিকিরন কে বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর রহস্য নির্ধারণ  করেন। জ্যোতিবিজ্ঞানে তাঁর এই আবিষ্কার নিউটনের ১০টিসেরা আবিষ্কারের পরই স্থান পেয়েছে।আয়নমন্ডল ও বেতার তরঙ্গ নিয়েও তিনি গর্বেষণা চালান।

তিনি বহু সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন, বহু সম্মানও লাভ করেন এবং তিনি বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানের সন্মেলনও আলোচনা চক্রে যোগ দিয়েছেন।১৯২৫ সালে ভারতের বিজ্ঞান কংগ্রেসের পদার্থ বিদ্যার তিনি মূল সভাপ তি হন। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৩১ সালে এলাহাবাদ বিজ্ঞান পরিষদ গঠিত হয়।
১৯৫৬সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।তাঁর সন্মানার্থে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব সায়েন্সের নাম 'সাহা ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স' হয়।
লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

02 October 2019

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রভাবশালী বিপ্লবী ভগৎ সিং এর ১১২তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি


১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ড তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করে। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ভগৎ সিং সেই মর্মান্তিক ঘটনা শোনেন, এরপর তিনি বাসে করে ৪০/৫০ মাইল দূরে অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে ছুটে যান। সেখানকার ত্রাস ও দুর্যোগের পরিবেশ উপেক্ষা করে কুড়িয়ে আনেন সেই রক্তরঞ্জিত মাটি। এই মাটি তাঁর কাছে সোনার চেয়েও খাঁটি। এ মাটি বিদ্রোহের প্রতীক। এভাবে ভগৎ সিং ছেলেবেলা থেকেই ব্রিটিশদের প্রতি ঘৃণা ও বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রর্দশন করেছেন। আর দেশকে মুক্ত করার জন্য জীবন বাজী রেখে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের দেওয়া ফাঁসির দড়ি হাসিমুখে বরণ করেন।
বিপ্লব প্রচেষ্টার হাতিয়ার হিসেবে জাতীয় আদর্শ ও ভাব ধারার প্রচার লেখার মাধ্যমে করতেন ছদ্মনামে। গুরুমুখী, হিন্দি ও উর্দুতে তিনি অমৃতসরের 'কীর্তি', দিল্লির 'মহারথী', কানপুরের 'প্রতাপ' ও 'প্রভা' এবং এলাহাবাদের'চাঁদ' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। 'সংগঠন ও প্রচারের কাজ কে তিনি পরস্পরের পরিপূরক মনে করতেন। তিনি সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে জাতীয় বিক্ষোপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালান।
ভগৎ সিংহের জন্ম একটি জাট শিখ পরিবারে। তাঁরই পরিবার পূর্ব থেকেই ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। কৈশোরেই ভগৎ সিংহ ইউরোপীয় বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে পড়াশোনা করেন এবং  কমিউনিজমের প্রতিও প্রতি আকৃষ্ট হন। এরপর তিনি একাধিক বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। দেশের লোকের প্রতিবাদ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরোধিতা,ব্যবস্থাপক সভার সভাপতির  আপত্তি বা পরামর্শঅগ্রাহ্য করে বড়লাট যে দমনাস্ত্র হাজির করতে বলেছেন তার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ বল্লভভাই প্যাটেল রুলিং দেবেন এরূপ সিন্ধান্ত হয়ে আছে পূর্ব হতেই। রুদ্ধশ্বাস ঔৎসুক্য নিয়ে সদস্যবৃন্দ অপেক্ষা করছেন - হঠাৎ দুম দুম করে দুটি বোমার আওয়াজ হল। বোমার ব্জ্রনিনাদে ধ্বনিত হল ভারতের প্রতিবাদ জানালেন দু'জন তরুণ।এটা ১৯২৯ সালের ৮ই এপ্রিলের ঘটনা।
একজন পাঞ্জাবী সর্দার ভগৎ সিংহ যিনি জন্মগ্রগণ গ্রহন করেন ১৯০৭সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ  ভার তেের পশ্চ্চিমে  পাঞ্জাবের লায়লপুর জেলার বংগা গ্রামে ।এ সময়  তাঁর বয়স মাত্র ২১ বছর। অপর জন ছিল তাঁরই সমবয়সী বটুকেশ্বর দত্ত বাংলার সনতান।বোমা ফাটাবার পর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক’, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ শ্লোগান দেন, যে-আওয়াজ ওইভাবে এর আগে কখনো শোনা যায়নি। পালাবার চেষ্টা না-করে তাঁরা নির্ভয়ে ইস্তাহার বিলি করতে থাকেন।  তাঁরা ইস্তাহার বিলি করতে থাকেন।
তিনি ১৯২৬সালের বিপ্লবী আন্দোলন প্রকাশ্য ফ্রন্ট 'নোও জোয়ান ভারতসভা' এবং পরবর্তীকালে হিন্দুস্থান প্রজাতন্ত্রী ও ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দল প্রবর্তন ও পরিচালনার সাথে যুক্ত থাকেন।দিল্লিতে সারা ভারতের বিল্পবীদের ঐঐক্যবদ্ধ  করার উদ্দেশ্যে যে অনুষ্ঠান বা সন্মেলন ১৯২৮ সালে হয়েছিল সেখানে দলের নাম পরিবর্তন করে হিন্দুস্থান সমাজবাদী প্রজাতন্ত্রী দল নাম করণ হয়। এ সময় সমস্ত কাজে তাঁর রচিত গঠনতন্ত্র, আইনকানুন, ঘোষ্ণণা ও ইস্তাহার গৃহিত হয়। এ সব কাজে তাঁর  কর্মক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়।
লাহোরের নিরস্ত্র ও শান্ত বিক্ষোভ সমাবেশে দেশপ্রেমী লালজির ওপর পুলিশ নগ্নভাবে আক্রমণ করেছিল। এই আক্রমণ ভগৎ সিংহকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। এই আক্রমণের পিছনে যে অফিসার ছিল তাকে শাস্তি দেবার দায়িত্ব
ভগৎ সিংহ নিজের হাতে নেন।লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসাবে তিনি এক পুলিশ অহিসারকে হত্যা করেন। ১৯২৯ সালের এপ্রিলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।১৯২৯ সালেই জুন মাসে ভগৎ সিংহ ও বটুকেশ্বর দত্তের যাব্জজীবন কারাদন্ড হয়।জেলে ভারতীয় ও ব্রিটিশ বন্দীদের সমানাধিকারের দাবিতে ৬৪ দিন টানা অনশন চালিয়ে তিনি সমর্থন আদায় করেন।
তারপর স্যান্ডার্স হত্যার অপরাধে তাঁকে আসামি করা হয়।এই মামলা লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা বলে খ্যাত। স্যান্ডার্স হত্যার অপরাধে ১৯৩১সালের ২৩শে মার্চ ভগৎ সিংহের ফাঁসি হয়।
প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

27 September 2019

২৬শে সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্ম বার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

১৮২০ সালে মেদিনীপুর জেলার বিরসিংহ গ্রামে বাংলার এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক জণ্মগ্রহন করেন মাতা ভগবতীদেবীর কোলে। পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জ্যোতিষ্কের নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। ঈশ্বরচন্দ্র ছোটবেলায় খুব দুরন্ত থাকলেও তিনি ছিলেন খুব বুদ্ধিমান। গ্রামের পাঠশালায় মন দিয়ে পড়াশুনা করতেন। গুরুমশাইয়ের কাছ থেকে অল্প দিনেই সব শিখে ফেললেন এবং
উচ্চশিক্ষ্যার জন্য পিতার হাত ধরে কল কাতায় আগমন। সেই সময় রেল গাড়ি ছিল না। বিরসিংহ গ্রাম থেকে পিতা পুত্র প্রায় ১২৮ কিমি: পায়ে হেঁটে কলকাতায় রওনা দেন। পথের ধারে মেইল স্টোন দেখে ঈশ্বরচন্দ্র ইংরাজি সংখ্যাগুলি শিখে নেন।

ঈশ্বরচন্দ্র কলকাতায় সংকৃত কলেজে ভর্তি হন। কিছুদিনের মধ্যেই ঈশ্বরচন্দ্র সাহিত্য, ব্যাকরণ, সংকৃত সহ আরও কিছু বিষ য় আয়ত্ব করে ফেলেন। তাঁর পান্ডিত্য দেখে দেশের পন্ডিতগণ তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র কুড়ি।

তিনি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে চাকরিতে যোগ দেন। এই সময় থেকেই ঈশ্বরচন্দ্র সংসারের সব দায়িত্ব নিয়ে নেন।পিতা এসময় চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে যান। ঈশ্বরচন্দ্রের ইচ্ছা হয় মাকেকিছু গয়না গড়িয়ে দেবেন,ছেলের ইচ্ছের কথা শুনে মা বললেন তাঁর তিনটি  গহনা চাই। গ্রামের ছেলেদের জন্য একটা স্কুল, মেয়েদের জন্যেএকটা স্কুল আর গরিবদের জন্য একটা ডাক্তারখানা। মায়ের এই গুন ছেলের মধ্যেও দেখা গিয়ে ছিল। নিজের জন্য বিদ্যাসাগর কখনও কিছু করেন নি।দেশের জন্য করেছেন।মাতৃভক্তির জন্য বিদ্যাসাগরের নাম কিংবদন্তী হয়ে আছে।
দানশীলতার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন।তাঁকে দয়ার সাগর বলা হত। রাম মোহনের সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদের পর বিধবা বিবাহ আইনের জন্য লড়াই করেন এবং তা  আইনবদ্ধ হয় তাঁরই প্রচেষ্টার ফলে।
১৮৪১সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে হেড পন্ডিতের পদ পান ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। চিরদি ন তিনি গোঁড়ামি, কু সংস্কার, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করে যান।স্কুল বিভাগের শিক্ষ্যার জন্য বহু গ্রন্থ বিদ্যাসাগর রচনা করেন। যেমন বোধোদয়, বর্ণ পরিচয়, কথামালা প্রভৃতি। এছাড়াও তিনি বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা, সীতার বনবাস প্রভৃতি রচনা করেছিলেন বাংলা ভাষার বল সঞ্চারের জন্য।তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
স্মপাদনা ক রেছিলেন উত্ত ররাম চ রিত,রঘুবংশ,কুমারস্মভব, কাদম্বরী, মেঘদূত, ইত্যাদি গ্রন্থ।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরএশিয়াযটিক সোসাইটির সভ্য ছিলেন। ১৮৯১সালের ২৯শে জুলাই তিনি প র লোক গ মন করেন।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উ ক্তি ছিল "তিনি হিন্দু বা বা বাঙ্গালী ব্রাহ্মণ ছিলেন না। তাঁর প্রথম প রি চ য় তিনি ছিলেন মানুষ।তাঁর মহৎ চরিত্রের যে অক্ষয় বট তিনি বঙ্গভূমিতে রোপণ করে গেছেন, তার তলদেশ জাতির তীর্থ স্থান হয়েছে"। ড:সুকুমার সেনের কথায় "বিদ্যাসাগ রের আগে বাংলা গদ্যের চ ল ছিল, কিন্তু চাল ছিল না"।
মহাত্মা গান্ধী  ব লে ছিলেন-"আমি যে দরিদ্র বাঙ্গালী ব্রাহ্মণকে শ্রদ্ধা ক রি তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর"।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনি কি এখনো  আধার প্যান কাডের সাথে লিংক করেন নি? হাতে আর মাত্র কয়েক টি দিন। ৩০শে সেপ্টেম্বেরের মধ্যে আপনাকে এই কাজ টি করে ফেলতে হবে। নচেত আপনার প্যান অকেজো হয়ে যাবে।

আপনি যদি এই মাসের মধ্যে আধারের সাথে প্যান লিঙ্ক না করেন তবে আপনার প্যান কার্ডটি অকেজো হয়ে যেতে পারে।  আপনার প্যান কার্ডকে আধার সাথে যুক্ত করার শেষ তারিখ 30 সেপ্টেম্বর আপনি যদি কোনও প্যানের সাথে লিঙ্কযুক্ত নয় এমন একটি আধার নম্বর উদ্ধৃত করে আইটিআর ফাইল করেন তবে আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নতুন প্যান কার্ড দেওয়া হবে।

আধার কার্ডের সাথে আপনার স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বর (প্যান) কার্ডের লিঙ্ক করার সময়সীমা এই মাসে শেষ হচ্ছে। এই বছরের শুরুর দিকে অর্থ মন্ত্রকের জারি করা একটি প্রজ্ঞাপন(নটিফিকেশন)অনুসারে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্যান ও আধার দুটি আইডি কার্ডের লিঙ্ক দেওয়ার শেষ তারিখ। সরকার অতীতে বেশ কয়েকবার সময়সীমা বাড়িয়েছে এবং সংযোগ প্রক্রিয়াটি শেষ করার এটিই শেষ এবং চূড়ান্ত আহ্বান হতে পারে।
প্যানটিকে আধার সাথে লিঙ্ক না করলে কী হবে আধারটিকে প্যানের সাথে সংযুক্ত না করার পরিণতিগুলি ফিনান্স বিলে 2019 সালে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আয়কর আইনের ধারা 139AA এর উপ-ধারা (2) এর আগে বলেছিল যে প্যানটি যদি আধার সংখ্যার সাথে সংযুক্ত না হয় তবে অবৈধ হয়ে যাবে।
তবে, অর্থ বিলটি এই মাস থেকে কার্যকর করে এই বিধানটি সংশোধন করেছে। নতুন নিয়ম অনুসারে, এই জাতীয় সমস্ত প্যান কার্ডগুলি "নিষ্ক্রিয়" হয়ে যাবে। এর অর্থ এই যে এই জাতীয় প্যান কার্ডগুলি আর ব্যবহার করা হবে না সরকার হিসাবে ব্যবহৃত। পরে এগুলি আবার চালু করা যায় কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয় কারণ আয়কর বিভাগের দ্বারা "নিষ্ক্রিয়" শব্দটি এখনও সংজ্ঞায়িত হয়নি।

আয় ক র রিযতার্ন দাখিল করার সময় যারা আধার নম্বর উদ্ধৃত করেছেন, যা কোনও প্যানের সাথে লিঙ্কযুক্ত নয়, তাদের আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নতুন প্যান কার্ড দেওয়া হবে।

প্যান কীভাবে আধার সাথে যুক্ত করবেন আপনি আয়কর বিভাগের ই-ফাইলিং ওয়েবসাইটে আপনার 12-সংখ্যার ইউআইডিএআই-জারি হওয়া আধারক নম্বরটি আপনার 10-সংখ্যার আলফানামুরিক প্যানের সাথে সহজেই সংযুক্ত করতে পারেন। আপনি পোর্টালে লিঙ্কে আধার-প্যানের স্থিতিও পরীক্ষা করতে পারেন। সমস্ত নতুন প্যান কার্ডের জন্য আপনার আধার নম্বরগুলি উদ্ধৃত করা বাধ্যতামূলক। আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) ফাইল করার সময় আপনার প্যানটিকে আধার সাথে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

পোস্টটা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই একটু Comment করে আপনার মূল্যবান মতামত  জানাবেন আপ নার মূল্যবান মতামত আমাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাতে  ভীষনভাবে সাহায্য করবে | কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

10 September 2019

শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের ৯৬ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সুকুমার  রায়ের পিতা উপেন্দ্রকিশোর  রায় ছিলেন একজন বিখ্যাত শিশু সাহিত্যিক। পিতার কাছ থেকে শিশু সাহিত্যি রচনার প্রেরণা সুকুমার রায় শৈশবেই পান। বাংলা সাহিত্যে সুকুমার রায় হলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যার লেখা অসাধারণ কিছু সাহিত্যকর্ম আজও বাঙালীর মনে অমর হয়ে আছে | সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায়ও একজন শিশু সাহিত্যিক। তিন পুরুষব্যাপী শিশু সাহিত্যি রচনায় বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে কলকাতার এই রায় পরিবার। ২০১৯ সালে সুকুমার  রায়ের ৯৬ তম  মৃত্যু বার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতার  এক ব্রাহ্ম পরিবারে জন্ম জন্মগ্রহন করেন| তাঁর মা বিধুমুখী দেবী ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রধান সংস্কারক দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে |

সুকুমার রায় ছোটবেলা থেকেই মুখে মুখে নানা ধরণের ছড়া তৈরি করে ফেলতেন অনায়াসেই | এমনকি গান গাইতেন, নাটক করতেন আর কবিতাও লিখতে। এক কথায় যদি বলতে হয় তাহলে সেইসময় থেকেই তিনি একধরনের মজাদার গোছের মানুষ ছিলেন এবং সবাইকে নেতৃত্ব দিতে খুব ভালোবাসতেন |

তাঁর বোন পুণ্যলতা তাঁর সম্পর্কে একসময় বলেছিলেন- “দাদা যেমন আমাদের খেলাধুলা ও সব কিছুরই পাণ্ডা ছিলো, তেমনি বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের মধ্যেও সে সর্দার ছিলো । তার মধ্যে এমন কিছু বিশেষত্ব ছিল যারজন্য সবাই তাকে বেশ মানতো । এমনকি বড়রাও তার কথার বেশ মূল্য দিতো”

প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময়ই তিনি কগড়ে তুলেছিলেন “ননসেন্স ক্লাব”। এই ক্লাবের মুখপত্র ছিল হাতে লেখাকাগজ-“সাড়ে বত্রিশ ভাজা” |
তার জনপ্রিয় সাহিত্য কর্ম আবোল তাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, কাতুকুতু বুড়ো, হুঁকো মুখো হ্যাংলা ইত্যাদি

সাড়ে বত্রিশ ভাজার পাতাতেই  সুকুমার রায় জীবনের সর্বপ্রথম নিজের রচিত হাস্যরসযুক্ত কিছু লেখা প্রকাশ করেন | আর এই ক্লাবের জন্য তিনি দুটো নাটকও রচনা করেছিলেন, যেগুলোর নাম যথাক্রমে ছিলো “ঝালাপালা”  ও “লক্ষণের শক্তিশেল”।ক্লাবের সদ্যসের নিয়েই তিনি, এই দুটো নাটককে সবার মাঝে পরিবেশন করেন। ননসেন্স ক্লাবের প্রতিটা নাটক দেখার জন্য, সেইসময়কার প্রচুর ছেলে ও বুড়োরা ভীষন ভিড় জমাতো এবং তাদের সবারই পছন্দের নাট্যকার ছিলেন সুকুমার রায়। আবোল তাবোল (১৯২৩),পাগলা দাশু (১৯৪০)হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরি, খাই-খাই (১৯৫০)। আবোল তাবোল’ পুস্তকটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৩-এর ১৯শে সেপ্টেম্বর, সুকুমারের মৃত্যুর ন’দিন পরে।

সুকুমার রায়ের মৃত্যুর ১৭ বছর পর ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় তার গল্প সংকলন ক'পাগলা দাশু'। এই গল্পগুলো সুকুমার  রায়ের সম্পাদিত পত্রিকা ' সন্দেশ'এ প্রকাশিত হত।এই সংকলনের ভূমিকা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

নাটক করা ছাড়াও, সন্দেশের সম্পাদক থাকাকালীন তাঁর লেখা ছড়া, গল্প ও প্রবন্ধ সবারই ভীষন পছন্দের ছিল, আজও বাংলা শিশুসাহিত্যে তাঁর রচিত সব  সাহিত্যকর্মই মাইলফলক হয়ে আছে আর ভবিষ্যতেও একই থাকবে |

তিনি রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞানে অনার্সে বি,এস,সি পাশ করার পর ১৯১১ সালেমুদ্রণ শিল্পে উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে বিলেত যান। সে সময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের সহিত বিলেতে তার সাক্ষাৎ হয়। সুকুমার রায় ইস্ট অ্যাড ওয়েস্ট সোসাইটির এক অধিবেশনে 'দি স্পিরিট অব রবীন্দ্রনাথ' নামক এক প্রবন্ধ পাঠ করেন। ইংল্যান্ডের সুধী সমাজে রবীন্দ্রনাথ তখন ও পরিচিত নন। সুকুমার যখন ইংল্যান্ডে পড়াশুনা করছিলেন, সেইসময় অন্যদিকে তাঁর বাবা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী জমি কিনে একটা  উন্নত-মানের রঙিন হাফটোন ব্লক তৈরি করেন এবং সেইসাথে নিজস্ব ছাপাখানাও স্থাপন করেন | এইসবই তিনি তৈরী করেছিলেন ছোটদের জন্য একটা মাসিক পত্রিকা “সন্দেশের”, প্রকাশনার উদ্দেশ্যেই | কিন্তু ১৯১৩ সালে ইংল্যান্ড থেকে পড়াশোনা শেষ করে সুকুমার রায় যখন কলকাতায় ফিরে আসেন, তার ঠিক অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর বাবা উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যু হয়।

এরপর ইংল্যান্ড থেকে ফিরে এসে তিনি  “মনডে ক্লাব” নামে ননসেন্স ক্লাবেরই মতো একই ধরণের আরেকটা ক্লাব খুলেছিলেন | এই ক্লাবের সাপ্তাহিক সমাবেশে, সদস্যরা সব বিষয় সম্পর্কেই আলোচনা করতেন ।ছোটবেলা হতেই সাহিত্য রচনায় তাঁর প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই তিনি  'মুকুল' ও 'সন্দেশ' পত্রিকায়  নিয়মিত ভাবে লিখতেন। বাবার মৃত্যুর পর একজন দায়িত্ববান ছেলে হিসাবে এরপর তিনিই সন্দেশ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং সেই পত্রিকাতেই নিজের অভূতপূর্ব সাহিত্যকর্ম গুলো একে একে প্রকাশ করতে থাকেন | বাবার মৃত্যুর পর আট বছর ধরে তিনি এই সন্দেশ পত্রিকার ও পারিবারিক ছাপাখানা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন | তারপর সেইসবের দায়িত্ব তিনি আসতে আসতে তাঁর ছোটভাইকেই সম্পূর্ণরূপে দিয়ে দেন। বিয়ের ঠিক ৮ বছর পর অর্থ্যাৎ ১৯২১ সালের ২রা মে তারিখে সুপ্রভা দেবী তাঁর একমাত্র পুত্রসন্তানের জন্ম দেন | যার নাম দেওয়া হয়েছিল সত্যজিৎ।

সত্যজিৎ রায় জন্মগ্রহণ করার কিছু মাস পর থেকেই সুকুমার রায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু হয়। পরে চিকিৎসা শুরু করার পর জানা যায়, তিনি কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবংসেই সময় সেটাকে ঠিক করা একদম অসম্ভব | কারণ তখন সেইযুগে কালাজ্বরের উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধের আবিষ্কার হয়ে ওঠেনি |

কিন্তু মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত জেনেও তিনি শেষসময়ে অসাধারণ মানসিক স্থৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন | কারণ এত বড় একটা রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি নিজের কাজকে একটা দিনের জন্যও বন্ধ করেননি বরং আরো উদ্যমের সাথে সেটাকে করে গেছিলেন |

এই সম্পর্কে অবশ্য জানা যায়, সত্যজিৎ রায়ের একটা লেখায় | যেখানে তিনি তাঁর বাবার শেষের দিনগুলো সম্পর্কে লিখেছিলেন এই কথাগুলো:

“রুগ্ন অবস্থাতেও বাবার কাজের পরিমাণ ও উৎকর্ষ দেখলে অবাক হতাম । শুধু লেখা বা আঁকার কাজেই নয়, ছাপার কাজেও যে তিনি অসুখের মধ্যে অনেক চিন্তা ব্যয় করেছেন তারও প্রমাণ রয়েছে। একটি নোটবুকে তাঁর আবিষ্কৃত কয়েকটা মুদ্রণ পদ্ধতির তালিকা রয়েছে । এইগুলো পেটেন্ট নেবার পরিকল্পনা তাঁর মনে ছিলো, কিন্তু কাজে হয়ে ওঠেনি@@@@

এই সত্যজিৎ রায় পরবর্তীকালে বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমা জগতের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হয়ে ওঠেন, যা আমরা  প্রত্যেকেই জানি।

১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর,কালাজ্বরে ১০০নং গড়পার রোডের বাড়িতে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে সাহিত্যিক সুকুমার রায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পোস্টটা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই একটু Comment করে আপনার মূল্যবান মতামত  জানাবেন আপ নার মূল্যবান মতামত আমাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাতে  ভীষনভাবে সাহায্য করবে | কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।


05 September 2019

ড: স র্বপ ল্লী রাধাকৃষ্ণণের ১৩১তম জন্ম বার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

ড: সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ মাদ্রাজে তিরুতানি শহরে  তেলেগু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পরিবারে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ছিল না। তিরুতানি শহরেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়। তিনি বেলোন কলেজে চার বছর পড়াশুনা করেন।১৯০৪ থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত রাধাকৃষ্ণণ মাদ্রাজ ক্রিশ্চান কলেজে পড়াশুনা করে বি, এ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।তাঁকে ড: স্যামুয়েল স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়।

রাধাকৃষ্ণণ পৃথিবির বিভিন্ন দেশে ভাষণ দিয়ে বহু  কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯৫৫ সালে তাঁর 'ডিসকভারি অব ফেথ' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।পরের বছর 'ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট' প্রকাশ পায়। ১৯৬২ সালে তিনি ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহন করেন।
মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এম,এ পরীক্ষাতে একটি মৌলিক প্রবন্ধ রচনা করতে হত। রাধাকৃষ্ণণ ওই সময় 'এথিকস্ অব দ্য বেদান্ত' নামে একটি অসাধরণ মৌলিক প্রবন্ধ রচনা করলেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র কুড়ি। ১৯১৯ সালে রাধাকৃষ্ণণ 'লরিয়েট ইন টিচিং' উপাধি লাভ করেন। এ সময় তিনি মাদ্রাজের প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপকরূপে শিক্ষক বৃত্তি গ্রহন করেন।

দার্শনিক ও শিক্ষক এবং ডাঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মবার্ষিকী এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর মনমুগ্ধকর অবদানের জন্য প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। তিনি ১৮৮৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ডাঃ রাধাকৃষ্ণানের মতে  শিক্ষকরা আমাদের সমাজের স্তম্ভ, তারা আমাদের বাচ্চাদের জীবনে জ্ঞান, শক্তি দিয়ে সজ্জিত করতে এবং জীবনের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে শিখিয়ে তুলতে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। তারা তাদের শিক্ষার্থীদের দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হতে শেখায়। ভারত সর্বকালের মহান শিক্ষকদের দ্বারা জ্ঞান বিতরণের জন্য স্বর্গ হিসাবে বিবেচিত হত। তদুপরি, তিনি চেয়েছিলেন যে শিক্ষার মান উন্নত করা উচিত এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং তারা যেভাবে পড়িয়েছিলেন তার মধ্যে একটি দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। সব মিলিয়ে তিনি শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চান। তাঁর মতে শিক্ষকের উচিত ছাত্রদের স্নেহ লাভ করা এবং শিক্ষকদের  ছাত্রদের শ্রদ্ধা অর্জন করা উচিত।

আপনি কি জানেন শিক্ষক দিবসের উদ্ভব হ ল কীভাবে ? ডাঃ রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনের শুভ উপলক্ষে তাঁর ছাত্র-বান্ধবীরা তাঁকে তাঁর জন্মদিন উদযাপনের অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তবে জবাবে ডঃ রাধাকৃষ্ণান বলেছিলেন যে, “আমার জন্মদিন আলাদাভাবে পালনের পরিবর্তে,  সেপ্টেম্বরেই শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা ভালো হবে। ১৯৬২সাল থেকে, ভারত ৫ইসেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করে আসছে। দিনটি দার্শনিক ও শিক্ষক ডাঃ সর্বপল্লী রাধখৃষ্ণনের জন্মদিন এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর মননশীল অবদানের স্মরণে। ১৯৭৫ সালের ১৬ই এপ্রিল তাঁর মহা প্রয়াণ ঘটে।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

27 August 2019

প্রেম, শান্তি  ও আশ্রয়ের প্রতীক মাদার টেরেসার ১০৯ তম জন্ম বার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

প্রেম, শান্তি  ও আশ্রয়ের প্রতীক একটি নাম হল মাদার টেরেসা। মানুষ কে শোষণ,নিপীড়ন, নিষ্ঠুরতার হাত থেকে মুক্তি দেবার জন্য যে সব সাধু-মহাত্মা অণেক  কষ্ট  ভোগ করেছেন,  মাদার টেরেসা ছিলেন তাঁদেরই  একজন। ইনি ১৯১০ সালে ২৭শে আগস্ট আড্রিয়াটিক সাগরের তীরে ছোট শহর স্কোপেনে এক আলবেনিয়ান কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতার নাম ছিল নিকোলাস বোজাকসহিউ যিনি পেশায় ছিলেন মুদি। তিনি মেয়ের নাম রেখেছিলেন অ্যাগনেস গোনক্সহা বোজাকসহিউ।জন্ম সূত্রে মাদার যুগোশ্লোভিয়ার বাসিন্দা হলে ও জাতিসূত্রে তিনি আলবেনিয়ান। অ্যাগনেসের বয়স যখন ৭ বছর তখন তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। মাতার কাছে তিনি মানু ষ হতে থাকেন। শৈশব হতেই বিশ্বের দুঃখী, আর্ত, অসহায় মানু ষের কান্না তার চোখের সামনে ভেসে উঠত।মায়ের প্রেরণাতেই গ রীবের প্রতি দয়া ও ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বিশ্বাস
অ্যাগনেস লাভ করেছিলেন।

স্কেপেজের পাবলিক স্কুলে পড়বার সময়ই সোডালিটি সংঘের মিশনারীদের কাজকর্মের প্রতি অ্যাগনেসের উৎসাহ ছিল। সংঘের পত্র - পত্রিকাগুলি নিয়মিত পড়তেন তিনি।তার নিজের কথায় 'At the age of twelve I first knew I had a vocation to help the poor. I wanted to be a missionary'.

স্কেপেজের পাবলিক স্কুলে পড়বার সময়ে কলকাতার প্রতি এক বিশেষ আকর্ষণ তৈরী হয়েছিল অ্যাগনেসের মনে।

অ্যায়ারল্যান্ডের লরেটো সংঘ তখন  কাজ করছিল। তাদের প্রধান কার্যালয় ছিল ডাবলিনে। অ্যাগনেস সেখানে যোগাযোগ করলেন এবং মায়ের অনুমতি নিয়ে যোগদিলেন লরেটো সংঘে।অ্যায়ারল্যান্ডের বাথার্নহামে গেলেন মাত্র আঠারো বছর বয়সে।

১৯২৮ সালে অ্যাগনেস জাহাজে ভেসে চলে এলেন কলকাতায়। যোগ দিলেন সিস্টারস অব লরেটোতে- আইরিস  সন্নাসিনীদের প্রতিষ্ঠান। সেই থেকেই তিনি মনে প্রানে বাংলার মানুষ হয়ে গেলেন।
তখন ও  পুরোপুরি  সন্নাসিনী তিনি হননি। শিক্ষানবিশী পর্ব শেষ করার জন্য  দার্জিলিং পাঠানো হল তাঁকে। দু বছর সেখানে কাটিয়ে গ্রহন করলেন সন্নাসিনী ব্রত।

কলকাতায় ফিরে এলেন সিস্টার অ্যাগনেস হয়ে। এন্টালির সেন্ট মেরিজ স্কুলে শিক্ষয়ত্রী হিসাবে যোগ দেন।দীর্ঘ কুড়ি বছর তিনি ঐ স্কুলের শিক্ষয়ত্রী ছিলেন। ১৯৪২ সালে তিনি ঐ স্কুলের অধ্যক্ষা হন। স্কুলে থাকাকালীন পাশে মতিঝিল বস্তির বাসিন্দাদের দুঃখ-কষ্ট,দারিদ্র, শিশুদের কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে পীড়া দিত।
তখন চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। মানুষ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে কলকাতার অবস্থা তখন খুবই দুর্বিসহ। একটু ভাতের আশায়,  একবাটি ফ্যানের আশায় দলে দলে গ্রামের মানুষ ভিড় করছে কলকাতায়। অনাহারে কু খাদ্য খেয়ে মানুষ  মারা যাচ্ছে। সিস্টার অ্যাগনেস এই সম য় তাঁর কাজ শুরু করলেন।তাঁর নাম হ ল মাদার অ্যাগনেস।
১০ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সালে দার্জিলিং যাবার সময় এক অলৌকিক উপলব্ধি তাঁর হল। এই উপলব্ধির কথা বলতে গিয়ে তুনিব লেছেন  ,'a call within a call.... The message was clear.I was to leave rhe convent and help the poor, while living among them.
গরিবের সেবা করতে হলে তাদের মধ্যে থেকেই সেটা করতে হবে। এটা তিনি সারা জীবন স্মরণে রেখেছিলেন। তিনি বলতেন  'দ্য ডে অব ডিমিশন'--- অনুপ্রেরণার দিন।  মাদার অ্যাগনেস পরিনত হলেন মাদার টেরেসাতে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটি এই দিন টিকেই অনুপ্রেরণার দিবস হিসাবে পালন করে।
মাদার অ্যাগনেসে অধ্যক্ষার কাজ ছেড়ে দেন।ল রে টোর স ন্নাসীদের বেশ ত্যাগ করে পরলেন মোটা নীল পাড় শাড়ী। সেদিন তার সম্বল বলতেছিল পাঁচ টাকা, একটি বাইবেল, ক্রস গাঁথা একটি জপের মালা। আর সাথে ছিল ঈশ্বরে নির্ভরতা, মনোবল আর বিশ্বাস।

১৯৫০ সালে মিশনারিজ অব চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করে শুরু করলেন মানুষের সেবার কাজ।দুঃখী, দরিদ্র মানুষ কে একান্ত মায়ের স্নেহ- মমতায় তুলে নিলেন বুকে।
মাত্র পাঁচ টাকা মূলধন করে যে মিশনারিজ ইব চ্যারিটির  জন্ম হয়েছিল আজ তা বিশ্বে শত শত শাখা প্রশাখা বিস্তার করেছে।
মানবতার সেবা ও শিক্ষা প্রচারের জন্য তিনি বহু দেশে শিশু ভবন,  মহিলা কর্মক্ষেত্র, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কেন্দ্র, ভ্রাম্যমান চিকিৎসাকেন্দ্র ও কুষ্ঠাশ্রম ইত্যাদি স্থাপন করেন। বৃদ্ধ বয়সে ও  এই মহীয়সী নারী সেবার কাজে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
মানুষ্ কে ভালোবাসার এক অভাব ণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন ক রে ছেন মাদার টেরেসা।গোটা বিশ্ব সেটা স্বীকার করে নতমস্তকে তাকে দিয়েছে নানা পুরস্কার।১৯৬২ সালে ভারত স র কারের 'পদ্মশ্রী', ১৯৭১সালে 'পোপের শান্তি' পুরস্কার।  এছাড়াও তিনি 'নেহ রু' 'মাস্টার অফ ম্যাজেস্টি', 'ভার ত র ত্ন', 'ম্যাগশেশাই' পুরস্কার এবং সন্মান পান।১৯৭৯ সালে ১৭ই অক্টোবর ভারতবর্ষ, এবং কলকাতার গৌর বের দিন। ভারতের নাগরিক মাদার টেরেসা পালেন নোবেল পুরস্কার। পোপ ফ্রান্সিস ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তে ভ্যাটিকান সিটির  সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে সন্ত উপাধি প্রদান করেন।ক১৯৯৭সালের৫ই সেপ্টেম্বর এই বিশ্ব জ ন নীচি র নিদ্রায় নিদ্রিত হ লেও আমাদের কাছে তিনিও ম র হ য়েই থাকবেন।

প্রিয় পাঠক–পাঠিকা ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। যে কোনো বিষয়ে জানা- অজানা তথ্য আমাদের সাথে আপনিও শেয়ার করতে পারেন।১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে ছবি সহ মেল করুন  wonderlandcity.net@gmail.com ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।