08 September 2021

আপনার এসবিআই, এইচডিএফসি ও অন্যান্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নিষ্ক্রিয় হতে পারে।


আপনার এসবিআই, এইচডিএফসি ও অন্যান্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নিষ্ক্রিয় হতে পারে। জেনে নিন কেন আপনার অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হতে পারে।

এসবিআই তার গ্রাহকদের তাদের স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বর (প্যান) কে তাদের আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক করার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে কারণ এটি করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংকিং সুবিধা স্থগিত হয়ে যাবে।  

ব্যাংকগুলি তাদের গ্রাহকদের তাদের প্যানকে আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করার পরামর্শ দিচ্ছে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় এবং নির্বিঘ্নে ব্যাংকিং পরিষেবা উপভোগ করা  যায়।  যদি লিঙ্ক করা না থাকে, তাহলে PAN  নিষ্ক্রিয় হবে এবং নির্দিষ্ট লেনদেন পরিচালনার জন্য উদ্ধৃত করা যাবে না,

প্যান-আধার লিঙ্ক করার শেষ তারিখ ৩০শে সেপ্টেম্বর  ২০২১ 


এবং যে কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যেখানে প্যান-আধার  লিঙ্ক করা নেই সেটা নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করা হবে। 

এখানে জেনে নিন কিভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে প্যান-আধার লিঙ্ক করবেন।

এখানে একটি সহজ ধাপে ধাপে নির্দেশিকা রয়েছে:

১)আয়কর ই-ফাইলিং পোর্টাল 2.0 খুলুন।

২)'লিঙ্ক আধার' বিকল্পটি খুঁজে পেতে হোমপেজে নিচে স্ক্রোল করুন, এটিতে ক্লিক করুন।

৩)প্যান নম্বর, আধার নম্বর, আধার অনুযায়ী নাম এবং মোবাইল নম্বর অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিবরণ পূরণ করুন । 

৪)"আমি আমার আধার বিশদ যাচাই করতে রাজি" লেখা বাক্সে টিক দিন

৫)নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে প্রাপ্ত ছয় সংখ্যার ওটিপি লিখুন। 

৬)'ভ্যালিডেট' টিপুন

৭)একটি পপ-আপ বার্তা স্ক্রিনে দেখাবে যে, আধারের অনুরোধের সঙ্গে আপনার লিঙ্ক প্যান জমা দেওয়া হয়েছে। 

এখানে জেনে রাখা দরকার প্যান-আধার লিঙ্ক ক রার জন্য আপনার আধার কার্ড এবং প্যানের উপর আপনার নাম, জন্ম তারিখ এবং লিঙ্গ যাচাইয়ের উপর নির্ভর করবে।  উভয় আইডি প্রমাণের বিবরণ অভিন্ন হতে হবে।




05 September 2021

টোকিও ২০২০ প্যারা অলিম্পিকে ৫টি সোনা সহ রেকর্ড ১৯টি পদক নিয়ে ভারত ২৪তম স্থানে রয়েছে।

 ভারত গেমসে ৯ টি ক্রীড়া শাখায় ৫৪ টি প্যারা-ক্রীড়াবিদদের সবচেয়ে বড় দল পাঠায়। ব্যাডমিন্টন এবং তায়কোয়ান্দো টোকিওতে সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ করে, উভয় খেলায় ভারত প্রতিনিধিত্ব করেছিল।


মোট ১৬২ টি দেশের মধ্যে, ভারত সামগ্রিক পদক তালিকায় ২৪ তম স্থান অর্জন করেছে। 

টোকিও প্যারা অলিম্পিকে ভারতীয় দল থেকে স্বর্ণপদকপ্রাপ্তরা হলেন:

মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল স্টান্ডিং এ -অবনী লেখারা,

পুরুষদের সিঙ্গেল এসএল  ব্যাডমিন্টনে প্রমোদ ভগত, 

পুরুষ একক এসএইচ  ব্যাডমিন্টনে কৃষ্ণ নগর,

পুরুষদের জ্যাভেলিন থ্রো এফ ৬৪ এ- সুমিত আন্টিল

এবং মণীশ নারওয়াল মিশ্র ৫০ মি পিস্তলে।  


রৌপ্য পদকপ্রাপ্তরা হলেন: 

মহিলা একক শ্রেণী ৪ টেবিল টেনিসে ভাবিনাবেন প্যাটেল, 

মিশ্র ৫০ মি পিস্তল তে সিংরাজ আধনা, 

পুরুষদের ডিস্ কাস F56 তে যোগেশ কাঠুনিয়া, পুরুষদের হাই জাম্প T47 এ নিষাদ কুমার, পুরুষদের হাই জাম্প T63 এ মারিয়াপ্পান থাঙ্গভেলু, 

পুরুষদের হাই জাম্প T64 এ প্রবীণ কুমার,

পুরুষদের জ্যাভেলিন F46 তে দেবেন্দ্র ঝাজরিয়া, এবং পুরুষদের একক ব্যাডমিন্টন SL4 তে সুহাস ইয়াতিরাজ। 

ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্তরা হলেন: 

মহিলাদের ৫০ মিটার রাইফেল ৩নং পজিশনে এসএইচ ১ -এ অবনী লেখারা,

পুরুষদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ আর্চারিতে হরবিন্দর সিং, 

পুরুষদের হাই জাম্প টি ৬৩ -এ শরদ কুমার,

পুরুষদের জ্যাভেলিন থ্রো এফ ৪৬ -এ সুন্দর সিংহ গুর্জার, 

পুরুষ একক ব্যাডমিন্টন এসএল ৩ -এ মনোজ সরকার এবং 

সিংরাজ আধানা পুরুষদের ২০ মিটার এয়ার পিস্তলে । 




01 September 2021

২রা সেপ্টেম্বর, সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর ৭৫তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 

প্রমথ চৌধুরী বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যে অবদান রেখে গেছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। তিনি রবীন্দ্র যুগে আবির্ভূত হলেও তাঁর সাহিত্য আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। 

পাবনার বিখ্যাত চৌধুরী বংশের সন্তান প্রমথ চৌধুরী কেবল কুলে-মানেই অভিজাত ছিলেন না, মনের দিক থেকেও ছিলেন উদার। কোনো কোনো সমালোচক মনে করেন, প্রমথ চৌধুরীর লেখা ‘প্যারাডক্সে আক্রান্ত’; অর্থাৎ যে উক্তি আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী মনে হলেও সত্যবর্জিত নয়। কিন্তু সত্য হলো—তাঁর লেখার ধরন খুবই বুদ্ধিবৃত্তিক ও যুক্তিনিষ্ঠ। পারিবারিক সূত্রে রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্রী-জামাতা এবং বয়োকনিষ্ঠ্য হয়েও গদ্য রচনারীতিতে রবী ঠাকুরকে প্রভাবিত করেছিলেন প্রমথ চৌধুরী, যা কবিগুরু নিজেই স্বীকার করেছিলেন। তিনি খুব উদার মানসিকতা থেকে বলেছিলেন, তাঁর গল্প ও সনেট বাংলা সাহিত্যে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ ও ভাষাভঙ্গি আর ভাবনার ধারা পরবর্তী একটি গোষ্ঠীর ওপর বিশেষ ক্রিয়াশীল হয়েছে। বাংলায় কথ্যরীতি তাঁরই হাতে সাহিত্যিক স্বীকৃতি লাভ করে। রবীন্দ্রনাথের জোর সমর্থন ও ব্যক্তিগত চেষ্টায় সে রীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। বস্তুত, প্রমথ চৌধুরীর ‘সবুজপত্র’ পত্রিকাকে কেন্দ্র করেই এ দুজনের প্রচেষ্টাতে এই কথ্যরীতির পূর্ণতম প্রতিষ্ঠা ঘটে।

তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।

তাঁর রচনাসমগ্রগুলি হল

তাঁর প্রথম প্রবন্ধ জয়দেব (প্রকাশিত হয় সাধনা পত্রিকায় ১৮৯৩ সালে)

তেল-নুন-লকড়ী (১৯০৬)

বীরবলের হালখাতা (১৯১৬)

নানাকথা (১৯১৯)

আমাদের শিক্ষা (১৯২০)

রায়তের কথা (১৯১৯) ইত্যাদি 

গল্পগ্রন্থসম্পাদনা

চার-ইয়ারী কথা (১৯১৬)

এই গল্পগ্রন্থে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেকটি প্রেমই অভিশপ্ত। নায়িকা চারজন ইউরোপীয়। প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় জন চোর, তৃতীয় জন প্রতারক এবং চতুর্থ জন নায়িকা। মৃত্যুর পরে তার ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে। ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সুক্ষ্ণ ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত এই কাহিনি বাংলা ভাবালু প্রেম কাহিনির প্রতিবাদী।

আহুতি (১৯১৯)

নীললোহিত (১৯৪১) ইত্যাদি 

"অনুকথা সপ্তক"

"ঘোষালে ত্রিকথা"

বাংলা সাহিত্যের এই বিখ্যাত দিকপাল ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর শান্তিনিকেতনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

30 August 2021

টোকিও প্যারা অলিম্পিক্সে প্রথম সোনা জয় ভারতের।

এ বারের টোকিও প্যারা অলিম্পিক্সে প্রথম সোনা জয় ভারতের। প্যারা অলিম্পিক্স কর্তৃপক্ষ টুইট করে লেখেন, 'সোনার দিন। শুটিংয়ে ভারতের প্রথম পদক এবং সেটা সোনা। অবনী বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেন। অলিম্পিক্স এবং প্যারালিম্পিক্স মিলিয়ে অবনী প্রথম মহিলা যে সোনা জিতেছে।'
১০ মিটার এয়ার রাইফেল শুটিংয়ে সোনা জিতলেন অবনী লেখারা।  প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে প্যারালিম্পিক্সে সোনা জিতলেন তিনি।২০১২ সালে ১৯ বছর বয়সী অবনী  একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পান। এটা টোকিয়ো প্যারা অলিম্পিক্সে ভারতের চতুর্থ পদক জয়।

24 August 2021

২৫ অগস্ট কবি অতুলপ্রসাদ সেনের ৮৭ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 

কবি অতুল প্রসাদ সেন
১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  অতুলপ্রসাদের জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে। বাল্যকালে পিতৃহীন হয়ে অতুলপ্রসাদ ভগবদ্ভক্ত, সুকণ্ঠ গায়ক ও ভক্তিগীতিরচয়িতা মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের আশ্রয়ে প্রতিপালিত হন। পরবর্তীকালে মাতামহের এসব গুণ তাঁর মধ্যেও সঞ্চারিত হয়।

অতুলপ্রসাদ ১৮৯০ সালে প্রবেশিকা পাসের পর কিছুদিন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়ন করেন। পরে বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তিনি কলকাতা ও রংপুরে আইন ব্যবসা শুরু করেন এবং পরে লক্ষ্ণৌতে স্থায়িভাবে বসবাস করেন। সেখানে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন এবং আউধ বার অ্যাসোসিয়েশন ও আউধ বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন। লক্ষ্ণৌ নগরীর সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গেও তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েন।অতুলপ্রসাদ প্রবাসী (বর্তমানেনিখিল-ভারত) বঙ্গ-সাহিত্য সম্মিলন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি উক্ত সম্মিলনের মুখপত্র উত্তরার একজন সম্পাদক এবং সম্মিলনের কানপুর ও গোরখপুর অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতিতে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও প্রথমে কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন, পরে লিবারেলপন্থী হন। 
 সৎপিতার সহায়তায় বিলেতে যান এবং বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তিনি কলকাতা ও রংপুরে আইন ব্যবসা শুরু করেন। বিলেত থেকে ফিরে আপন মামাতো বোন হেমকুসুমের প্রেমে পড়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বহু সমালোচনার সন্মুখিন হন এবং এই বিবাহ সম্পর্ক সুখের ছিল না। পরে লক্ষ্ণৌতে স্থায়িভাবে বসবাস করেন। সেখানে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন এবং আউধ বার অ্যাসোসিয়েশন ও আউধ বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন। লক্ষ্ণৌ নগরীর সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গেও তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েন।
ছোটবেলায়  ঢাকা ও ফরিদপুরে বাউল, কীর্তন ও মাঝি-মাল্লাদের  ভাটিয়ালি গানের মূর্ছনা অতুলপ্রসাদের হূদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করেছিল। সে সুরের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত তাঁর বাউল ও কীর্তন ঢঙের গানগুলিতে বাংলার প্রকৃতিকে খুঁজে পাওয়া যায়। অতুলপ্রসাদ প্রেম, ভক্তি, ভাষাপ্রীতি, দেশপ্রেম প্রভৃতি বিষয়ভিত্তিক বহু গান রচনা করেছেন। ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে স্বেচ্ছাসেবকদের অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে দেশাত্মবোধক গানটি রচনা করেন, তাতে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের সুর আছে: ‘দেখ মা এবার দুয়ার খুলে/ গলে গলে এল মা/ তোর হিন্দু-মুসলমান দু ছেলে’। ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আমরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান। এভাবে বাণীপ্রধান গীতি রচনা, সুললিত সুর সংযোজন, সুরারোপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রচলন ও করুণা রসসঞ্চারের মাধ্যমে অতুলপ্রসাদ বাংলা সঙ্গীতভান্ডারকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট লক্ষ্ণৌতে তাঁর মৃত্য হয়।

18 August 2021

২৬শে আগষ্ট ২০২১ সালে করুণাময়ী জননী মাদার টেরেসার ১১১তম জন্ম বার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 


শৈশব হতেই বিশ্বের দুঃখী, আর্ত, অসহায় মানুষের কান্না তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠত।গৃহের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য পরিহার করে আর্তের সেবা করাই তিনি জীবনের মন্ত্ররূপে গ্রহন করেন। সুযোগও তাঁর এসে যায়। ১৯২৮ সালে ১৮ বছরের অ্যাগনেসকে যুগোশ্লোভিয়ার জেনুইট সঃস্থা আয়ারল্যান্ডের লরেটো সংঘে পাঠায়। স্কেপেজের পাবলিক স্কুলে পড়বার সময়েই সোডালিটি সংঘের মিশনারীদের কাজকর্মের প্রতি অ্যাগনেসের উৎসাহ ছিল। ক্লাসে যুগোশ্লোভিয়ার জেসুইটদের চিঠি  পড়ে শোনানো হত। সেখানে কলকাতার কথাও থাকত। সে সব শুনে কলকাতার প্রতি এক বিশেষ টান তৈরী হয়েছিল অ্যাগনেসের মনে।

খ ব র নিয়ে জানলেন আয়ারল্যান্ডের লরেটো সংঘ ভারতে কাজ করছে। তাদের প্রধান কার্যালয় ছিল ডাবলিনে। অ্যাগনেস তাদের সাথে যোগাযোগ  করে মায়ের অনুমতি নিয়ে যোগ দিলেন লরেটো সংঘে।আয়ারল্যান্ডের বাথার্নহামে গেলেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে।

১৯২৮ সালে অ্যাগনেস জাহাজে ভেসে চলে এলেন কলকাতায়। যোগ দিলেন আইরিস সন্নাসিনীদের প্রতিষ্ঠান সিস্টারস অব লরেটোতে। সেই থেকেই তিনি মনে প্রাণে বাংলার  মানুষ  হয়ে গেলেন। দু বছর দার্জিলিং এ থেকে সন্নাসিনী ব্রত নিয়ে সিস্টার অ্যাগনেস কলকাতায় আসেন। কলকাতার এন্টালির সেন্ট মেরিজ স্কুলে বাংলা বিভাগের শিক্ষয়িত্রী হিসাবে যোগ দেন। ভুগোল ও ইতিহাস ছিল তাঁর পড়াবার বিষয়। প্রায় কুড়ি বছর তিনি ঐ স্কুলের শিক্ষয়িত্রী ছিলেন। স্কুলে থাকাকালীন পাশে মতিঝিল  বস্তির বাসিন্দাদের দুঃখ- কষ্ট, দারিদ্র, শিশুদের কষ্ট তাঁকে গভীর  ভাবে পীড়া দেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানুষ সৃষ্ট  দুর্ভিক্ষ কলকাতার  অবস্থা খুবই দুর্বিসহ  হয়ে ওঠে।একটু ভাতের আশায়, এক বাটি ফ্যানের আশায় দলে দলে গ্রামের মানুষ  ভিড় করে কলকাতায়। মানুষ কুখাদ্য খেয়ে মারা যাচ্ছে। তিনি বুঝেছিলেন চার দেওয়ালের গন্ডীর মধ্যে থেকে দরিদ্রের, আর্তের সেবা হয় না। এর বাইরে তাঁকে বের হতে হবে। ওই বস্তিতে গিয়ে তিনি আর্ত মানুষের সেবা শুরু করেন। ১৯৩১সালে তিনি সন্নাসব্রত গ্রহন করেন। তখন তাঁর নাম করণ হয় মাদার টেরেসা নামে। মাদার লরেটোর সন্নাসিনীদের  বেশ ত্যাগ করে পরলেন মোটা নীল পাড় শাড়ী। সেদিন তাঁর সম্বল বলতে ছিল ৫ টাকা, একটি বাইবেল, ক্রুস সম্বলিত জপের মালা। আর সাথে ছিল ঈশ্বরের নির্ভরতা, মনোবল  আর বিশ্বাস।

একান্ত নিঃস্ব অবস্থায় ১৯৫০ সালে তাঁর সেবার জন্য  কলকাতায় স্থাপিত করেন 'মিশনারি অব চ্যারিটি'। ওই বছরেই তিনি কালিঘাটে নির্মল হৃদয় আশ্রম প্রতিষ্টা করেন।

নির্মল হৃদয় আশ্রম

তাঁরই প্রচেষ্টায় হাওরায় স্থাপন করলেন  কুষ্টরোগীদের আশ্রম। এর পরেও তিনি  বিভিন্ন জায়গায় বহু স্কুল, দাতব্য চিকিৎসালয়, উদ্ধারাশ্রম প্রতিষ্টা করেন। ১৯৭৮ সালে রোমের  কর্তৃপক্ষর অনুমতি নিয়ে আশ্রমের বাইরে থেকেও আর্ত মানুষের সেবায় লেগে পরলেন। সারা বিশ্বে তাঁর কর্মকান্ড ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৫-৬৯ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলা, কলম্বো, তানজানিয়া, রোম, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডন, নিউ ইয়র্ক প্রভৃতি জায়গায় গড়ে ওঠে 'মিশনারি অব চ্যারিটি'।চিরন্তনী জননীর রূপ প্রত্যক্ষ করে সারা বিশ্বের মানুষ  ধন্য হয়। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে করুণাময়ী  জননী মাদার টেরেসার নাম।ভারতের বাইরে তাঁর প্রথম কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালে ভেনিজুয়েলায়। মাত্র ৫ জন সন্ন্যাসিনীকে নিয়ে সে কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তাঁর মহৎ কীর্তির বিভিন্ন স্বীকৃতিএল দেশ দেশান্তর  হতে। ১৯৯৭ সালে ৫ই সেপ্টেম্বর  এই বিশ্ব জননী চিরনিদ্রায় নিদ্রিত হলেও আমাদের কাছে তিনি অমর হয়েই থাকবেন।

২০১৬ সালে পোপ ফ্রান্সিস তাকে 'সন্ত' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং ক্যাথলিক গির্জায় তিনি ভারতের  'কলকাতার সন্ত টেরিজা' হিসেবে আখ্যায়িত হন।

16 August 2021

১৬ই আগষ্ট ২০২১ সালে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের ১৩৫ তম প্রয়াণ দিবসে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

রামকৃষ্ণ পরমহংস

ভক্তিমতী রাণী রাসমণিও নেই, অনুগত সেবক মথুর বাবুও নেই। এখনকার কর্তাদের জমিদারি  মেজাজ,  দক্ষিণেশ্বর মন্দির নিয়ে তারা বিশেষ  মাথা ঘামান না। রামকৃষ্ণ অসুস্থ  হয়ে পড়লেও খোঁজখবর নিলেন না কর্তারা। দিন দিন ভক্তের সংখ্যা বাড়ছে, সারাদিন ধরে মানুষ আসে,তারা দর্শন চায়, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। কথা বলতে বলতে গান আসে, এক সময় ভাবাবেশে মূর্ছা যান। ইদানীং রামকৃষ্ণ পরমহংসের শরীর কৃশ হয়ে আসছে, মাঝেমধ্যে কাশির দমক আসে, তখন খুবই দুর্বলতা ও যন্ত্রণা বোধ করেন।

রামকৃষ্ণ পরমহংসের অবস্থাপন্ন ভক্তরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু ডাক্তারদের ওষুধে কাজ হয় না। ব্যাথা ক্রমশই বাড়ছে। একদিন পরমহংসকে গাড়িতে করে তালতলায় এনে বিখ্যাত  ডাক্তার দূর্গাচরণ বন্ধ্যোপাধ্যায়কে দেখানো হয়। এই দুর্বল শরীরে তাঁকে বারবার  কলকাতায় আনা যায় না, আর ব্যস্ত ডাক্তারও দক্ষিণেশ্বরে যেতে চাইবেন  না।দক্ষিণেশ্বরের ঘরটিও স্বাস্থ্যকর  নয়।স্যাঁতসেঁতে। অবিরাম গঙ্গার জলো হাওয়া আসে।প্রাতঃকৃত্য সারবার জন্য তাঁকে অনেকটা দূরে যেতে হয়, তাতে তাঁর এখন কষ্ট হয়।

রামকৃষ্ণের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য ভক্তরা তাঁকে কলকাতায় এনে রাখবেন ঠিক করলেন। বাগবাজারে গঙ্গার ধারে বাড়ি ভাড়া নেওয়া  হল। এক সকালবেলায় দক্ষিণেশ্বর ছেড়ে বাগবাজারের ভাড়া বাড়িতে গেলেন। গঙ্গার ধারেই বেশ নিরিবিলি পরিবেশে বাড়ি রামকৃষ্ণের বাড়ি পছন্দ হল না।  পরিশেষে রামকান্ত বসু স্ট্রিটে রামকৃষ্ণের সংসারী ভক্তদের অগ্রগণ্য  বলরাম বসুর বাড়ি রামকৃষ্ণের থাকার ব্যবস্থা হল। এলোপ্যাথিক ওষুধ তাঁর সহ্য হয় না, তাই নাম করা হোমিওপ্যাথ প্রতাপচন্দ্র মজুমদারকে ডাকা হয়েছে। তাঁর ওষুধে সাময়িক ভাবে ব্যাথার নিবৃতি হয় কিন্তু মূল রোগ বেড়েই চলেছে। এখন কাশির সাথে রক্ত পড়ে, শক্ত কিছুই খেতে পারেন না রামকৃষ্ণ। নানান চিকিৎসকেরঅভিমত  শুনে বোঝা যাচ্ছে সহজ রোগ এটা না।প্রখ্যাত কবিরাজ গঙ্গাপ্রসাদ সহ একদল কবিরাজ    রামকৃষ্ণকে দেখলেন। রোগের উপসর্গ শুনে ও রামকৃষ্ণের গলা পরীক্ষা করে গঙ্গাপ্রসাদ ভক্তদের  বললেন এ রোগের নাম রোহিণী,  ইংরেজ ডাক্তাররা যাকে বলে ক্যান্সার যার চিকিৎসা তাদের সাধ্যের অতীত। এই শ্যাম পুকুরের বাড়িতেই রামকৃষ্ণের শিষ্য মন্ডলি আস্তে আস্তে জমা হতে থাকল। অনেক ডাক্তারই তো দেখানো হচ্ছে, একবার মহেন্দ্রলাল সরকারকে ডাকার কথা ওঠে।  ধন্বন্তরি বলে তাঁর নাম রটেছে। প্রতাপ মজুমদারেরও সেই মত। সেই মত মহেন্দ্রলাল সরকারকে ডাকা হল। শ্রী  রামকৃষ্ণের শারীরিক  অবস্থার অবনতি হচ্ছে দিন দিন। একনাগারে কাশি ও রক্তপাত। কোন খাবারই গলা দিয়ে নামতে চায় না।
ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার পরামর্শ  দিলেন যে কলকাতার  দূষিত  আবহাওয়ায় রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। রামকৃষ্ণ চিরদিন খোলা মেলা জায়গায় থেকেছেন। সেই জন্য রামকৃষ্ণকে স্বাস্থ্যকর খোলা মেলা জায়গায় রাখা দরকার।রামকৃষ্ণের দক্ষিণেশ্বরের সে ঘরটির প্রতি এখন আর কোনো  টান নেই। ভক্তরা ঠিক করল  কলকাতার বাইরে কোথাও একটা বাড়ি ভাড়া নিতে হবে।অনেক  অনুসন্ধানের পর  কাছাকাছির মধ্যে  বাগবাজারের খাল পেরিয়ে বরানগরের পথে কাশীপুরে একটি উদ্যান বাটি মাসিক আশি টাকায় ভাড়া পাওয়া গেল । এগারো বিঘার বেশী জমির মাঝখানে দোতলা বাড়ি, চারিদিক পাঁচিল  দিয়ে ঘেরা, ভেতরে দুটি পুকুর  ও নানারকম  ফুল ফলের বাগান। কাশীপুরের বাড়িতে যেতে রামকৃষ্ণ সন্মত হয়েছেন। অঘ্রান মাসের শুক্লাপঞ্চমীর দিনে দুটো ঘোড়ার গাড়িতে কাশীপুরের দিকে যাত্রা শুরু হল। একটা গাড়িতে রামকৃষ্ণ  ও সারদামণি আর নরেন। অন্য গাড়িতে  কয়েক জন ভক্ত।বাড়িটির দোতালার ঘরে রামকৃষ্ণর  থাকার ব্যবস্থা  করা হয়। নিচের বড় হল ঘরটা বসার জায়গা।  তার পাশের ঘরে থাকবে ভক্তরা। উত্তর দিকে কোনের ঘরটাতে থাকবেন সারদামণি। 
ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার জানতেন যে রামকৃষ্ণের ভক্তরা তাঁর ওষুধের ওপরে পুরোটা  ভরসা না করে এলোপ্যাথিক. বায়োকেমিক,  কবিরাজি  ইত্যাদি কোনো কিছুই বাকি রাখেনি।  সারদামণি তারকেশ্বরে হত্যে দিয়েও এসেছেন। মহেন্দ্রলাল আপত্তি করেননি। এ রকম হলে সাধারণত  বড় ডাক্তাররা রুগির দায়িত্ব নিতে চান না। কিন্তু মহেন্দ্রলালের অহংবোধ বাধার সৃষ্টি করেননি।

না ডাক পেলেও মহেন্দ্রলাল নিজে থেকেই কাশীপুরে  চলে যেতেন।অবশেষে সমস্ত চেষ্টা  ব্যর্থ করে ১৮৮৬ সালের ১৬ই অগষ্ট বেলা সাড়ে এগারোটায় তাঁর প্রাণবায়ু বহির্গত হয়। বিকালে কাশীপুরের শ্মশানে তাঁর শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়।